jonmo-nibandhan-songsodhon

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং পদ্ধতি

জন্ম নিবন্ধন একটি অপরিহার্য নথি যা আমাদের জন্মের তারিখ, স্থান, পিতা-মাতার তথ্য এবং জাতীয়তা নিশ্চিত করে। জন্ম নিবন্ধন বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, উচ্চশিক্ষা, পাসপোর্ট তৈরি, বিবাহ নিবন্ধন এবং চাকরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে জন্ম নিবন্ধনে ত্রুটি থেকে যেতে পারে। এই ত্রুটি সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। এখানে, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের প্রক্রিয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করা হল।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কারণসমূহ

  • নামের বানান ভুল:
    • উদাহরণ: জন্ম নিবন্ধনে “মোঃ রহিম” এর পরিবর্তে “মোহাম্মদ রহিম” লেখা।
  • জন্ম তারিখে ত্রুটি:
    • উদাহরণ: জন্ম নিবন্ধনে ভুল তারিখ উল্লেখ।
  • পিতা-মাতার তথ্য সংক্রান্ত ত্রুটি:
    • উদাহরণ: পিতার নাম ভুল উল্লেখ, মাতার নামের বানান ভুল।
  • জন্মস্থানের ভুল উল্লেখ:
    • উদাহরণ: জন্ম নিবন্ধনে ভুল জেলা/উপজেলা উল্লেখ।
  • লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্যে ভুল:
    • উদাহরণ: জন্ম নিবন্ধনে ভুল লিঙ্গ উল্লেখ।

কখন এবং কিভাবে সংশোধন করবেন?

  • আপনি যদি দেশে অবস্থান করেন:
    • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ:
      • আপনার জন্ম যে ইউনিয়নে নিবন্ধিত হয়েছে, সেই ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন।
    • পৌরসভা:
      • আপনার জন্ম যে পৌরসভায় নিবন্ধিত হয়েছে, সেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
    • সিটি কর্পোরেশন:
      • আপনার জন্ম যে সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত হয়েছে, সেই কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করুন।
  • আপনি যদি বিদেশে অবস্থান করেন:
    • বাংলাদেশ দূতাবাস:
      • আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।
    • বাংলাদেশ কনস্যুলেট:
      • আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন:

১. পূরণকৃত আবেদন ফর্ম:

  • সংশ্লিষ্ট অফিস (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, দূতাবাস, কনস্যুলেট) থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন।
  • ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  • সকল তথ্য স্পষ্ট ও সাবধানে লিখুন।
  • ভুল তথ্য প্রদানের জন্য জরিমানা হতে পারে।

২. জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি:

  • আপনার জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি জমা দিতে হবে।
  • মূল কপি ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
  • মূল কপির সাথে একটি ফটোকপি জমা দিন।

৩. সংশোধনযোগ্য তথ্যের প্রমাণ-পত্র:

  • আপনি যে তথ্য সংশোধন করতে চান তার প্রমাণ-পত্র জমা দিতে হবে।
  • উদাহরণস্বরূপ:
    • নামের বানান সংশোধন: নাম পরিবর্তনের গেজেট, শিক্ষাগত সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট ইত্যাদি।
    • জন্ম তারিখ সংশোধন: হাসপাতালের সনদ, শিক্ষাগত সনদপত্র ইত্যাদি।
    • পিতা-মাতার তথ্য সংশোধন: পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), বিবাহ নিবন্ধন ইত্যাদি।
    • জন্মস্থান সংশোধন: বাসস্থানের প্রমাণপত্র, ইউনিয়ন পরিষদের সনদ ইত্যাদি।
    • লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন: ডাক্তারের সনদপত্র।

৪. আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ছবি:

  • দুই কপি সাম্প্রতিক (পাসপোর্ট সাইজ) ছবি জমা দিতে হবে।
  • ছবি স্পষ্ট এবং সামনের দিক থেকে তোলা হতে হবে।

৫. জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের ফটোকপি:

  • আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
  • ফটোকপিটি স্পষ্ট এবং সকল তথ্য পঠনযোগ্য হতে হবে।

৬. প্রযোজ্য ফি:

  • নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।
  • ফি পরিশোধের রশিদ আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন।
  • ফি পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন

ধাপ ১: জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন

  • https://bdris.gov.bd/br/correction এই ওয়েবসাইটে যান।
  • মেনু থেকে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য বের করুন

  • আপনার ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করুন।
  • “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক করে আপনার নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন।
  • যদি আপনার নিবন্ধন নম্বর ১৭ ডিজিটের না হয়:
    • সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন অফিস/উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
    • আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন করুন।
    • অনলাইন সম্পন্ন হলে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রদান করা হবে।
  • “নির্বাচন” করুন বাটনে ক্লিক করুন এবং “কনফার্ম” করুন।

ধাপ ৩: নিবন্ধন কার্যালয় বাছাই করুন

  • আপনি যেই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার অধীনে জন্ম নিবন্ধন সনদ করেছেন তার ঠিকানা উল্লেখ করুন।
  • দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা সিলেক্ট করুন।
  • পৌরসভা/ইউনিয়ন সিলেক্ট করে অফিস যাচাই করুন।
  • “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: সংশোধনের তথ্য বাছাই করুন

  • জন্ম নিবন্ধন সনদের যে তথ্যগুলো সংশোধন করতে চান তা ফরমে সংযোজন করুন।
  • আপনার চাহিত শুদ্ধ তথ্যটি লিখুন।
  • উদাহরণস্বরূপ:
    • নামের বানান
    • জন্ম তারিখ
    • পিতা-মাতার তথ্য
    • জন্মস্থান
    • লিঙ্গ

ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন

  • সংশোধনযোগ্য তথ্যের প্রমাণ-পত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  • উদাহরণস্বরূপ:
    • নাম পরিবর্তনের গেজেট
    • শিক্ষাগত সনদপত্র
    • জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট

ধাপ ৬: আবেদন ফি প্রদান করুন

  • নির্ধারিত ফি প্রদান করুন।
  • অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ফি প্রদান করুন।

ধাপ ৭: আবেদন জমা দিন

  • “আবেদন জমা দিন” বাটনে ক্লিক করুন।
  • আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি রশিদ প্রিন্ট করে রাখুন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন: খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নিয়ম ও আরও তথ্য

জন্ম নিবন্ধন আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। এটি শুধুমাত্র আমাদের পরিচয় প্রমাণ করে না, বরং বিভিন্ন শিক্ষাগত ও সরকারি সেবা গ্রহণের জন্যও প্রয়োজনীয়।

কখনও কখনও আমাদের জন্ম নিবন্ধনে কিছু তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। এই তথ্যগুলো সংশোধন করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও খরচ নির্ধারণ করা আছে।

এই ব্লগ পোস্টে আমরা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ, কাগজপত্র, নিয়ম ও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে আলোচনা করব।

খরচ:

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার জন্য নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা। তবে, সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:

  • জন্ম তারিখ সংশোধন: ১০০ টাকা
  • নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সংশোধন: ৫০ টাকা
  • বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহ: ৫০ টাকা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর:

  • সংশোধনের ধরন: নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার তথ্য ইত্যাদি সহজ তথ্য সংশোধন করতে ৭-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তবে, জটিল সংশোধনের জন্য আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
  • আবেদন করার স্থান: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, দূতাবাস, কনস্যুলেট ইত্যাদিতে আবেদন করলে সময়ের ব্যবধান ভিন্ন হতে পারে।
  • আবেদনের প্রক্রিয়া: সঠিকভাবে পূরণকৃত আবেদন ফর্ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সঠিক ফি জমা দিলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
  • কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতার উপরও সময়ের ব্যবধান নির্ভর করে।

সাধারণত, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে ৭-৩০ দিন সময় লাগে। তবে, জটিল সংশোধনের ক্ষেত্রে 60 দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কিছু টিপস:

  • আবেদন করার পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • সঠিকভাবে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন।
  • সঠিক ফি জমা দিন।
  • আবেদন করার পর নিয়মিত আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন: FAQ

প্রশ্ন: কোন পরিস্থিতিতে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রয়োজন?

উত্তর: জন্ম নিবন্ধনে ভুল তথ্য থাকলে, যেমন নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার তথ্য, লিঙ্গ, ধর্ম, জন্মস্থান ইত্যাদি, তাহলে সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কত সময় লাগে?

উত্তর: আবেদন করার পর, সংশোধন করতে ৭-১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে?

উত্তর:

  • আপনি যদি দেশে থাকেন:
    • আপনার জন্ম যে ইউনিয়নে নিবন্ধিত: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন।
    • আপনার জন্ম যে পৌরসভায় নিবন্ধিত: সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
    • আপনার জন্ম যে সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত: সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের বিভাগে যোগাযোগ করুন।
  • আপনি যদি বিদেশে থাকেন:
    • বাংলাদেশ দূতাবাস: আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।
    • বাংলাদেশ কনস্যুলেট: আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?

উত্তর:

  • পূরণকৃত আবেদন ফর্ম
  • জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি ও ফটোকপি
  • সংশোধনযোগ্য তথ্যের প্রমাণ-পত্র (যেমন: নাম পরিবর্তনের গেজেট, শিক্ষাগত সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট ইত্যাদি)
  • আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ছবি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের ফটোকপি
  • নির্ধারিত ফি

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত ফি। তবে, সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

প্রশ্ন: অনলাইনে কি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, অনলাইনেও জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়। https://bdris.gov.bd/br/correction এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন।

Share this article
0
Share
Shareable URL
Prev Post

জয়েন উদ্দিন সরকার তন্ময়’র কবিতা: ছেড়ে দিয়ে বাঁচি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

৩১ বছর পর | নুসরাত জান্নাত

ঘোষ পরিবারের ছোট ছেলে বিমল ঘোষ এবার পুজো কাটাতে যাবে কক্সবাজারে। তার স্ত্রী চন্দনাকেও সাথে নিবে। যৌথ পরিবারে…
31-bochor-por

৩০ নভেম্বর ও বুদ্ধদেব বসু

বুদ্ধদেব বসু ছিলেন একজন বাঙালি কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক। তিনি…
30-november-and-buddhadeb-boshu
0
Share